নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে খেলাধুলাকে ‘সফট পাওয়ার’ ও অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলল বিএনপি

নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে খেলাধুলাকে ‘সফট পাওয়ার’ ও অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলল বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন অর্থনীতি, জ্বালানি, শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কার ঘিরে আলোচনা জোরদার হচ্ছে, তখন খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে খেলাধুলাকে ‘সফট পাওয়ার’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের বন্দর শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা, সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি খেলাধুলা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সেই পরিকল্পনার কার্যকারিতা ও বাস্তবতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলোর সমন্বয় ঘটানোর জন্য ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতামত শোনা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা বিবেচনায় না নিলে পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত হবে না।

আলোচনা সভায় চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের বিদ্যমান সমস্যার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে মাঠ সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আমীর খসরু। তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ১১টিতে খেলার মাঠ রয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও পর্যায়ক্রমে মাঠ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের মধ্যে প্রতিভার ঘাটতি নেই; পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভাবই মূল সমস্যা।

খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন বা প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার ওপর জোর দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, খেলাধুলার পরিসর বাড়লে দর্শকসংখ্যা বাড়ে, টিকিট বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট লেনদেন বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে একটি স্পোর্টস-কেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে। খেলাধুলা জনপ্রিয় হলে ক্রীড়াবিদ, কোচ, সংগঠক, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, সম্প্রচার, বিপণনসহ নানা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আমীর খসরু আরও বলেন, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি কিংবা ভলিবলের মতো খেলায় নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন হলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ে। দর্শকরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখেন, টিকিট কেনেন, পরিবহন, খাদ্য ও অন্যান্য সেবায় ব্যয় করেন। এসব লেনদেন সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এ কারণে খেলাধুলার প্রসার মানেই কেবল ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নয়, বরং কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে খেলাধুলা বিস্তার, প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে ক্রীড়া সংগঠনগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও বক্তব্যে খেলাধুলাকে উন্নয়ন ও অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরা সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। বিএনপির এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে দলটির ক্রীড়ানীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ