কিশোরগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার গণমিছিল ও সমাবেশে নির্বাচনি প্রচারণা

কিশোরগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার গণমিছিল ও সমাবেশে নির্বাচনি প্রচারণা

 

রাজনীতি ডেস্ক

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাকুন্দিয়ায় গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দেখতে চায় না। দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন এবং বলেছেন, তিনি সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকতে চান।

সমাবেশে তিনি বলেন, “পাকুন্দিয়ার মানুষ সারাদেশের মানুষের কাছে দেখিয়ে দেবে যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ ও বালুখোরদের স্থান নেই। তাই আমি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কাটানো দল ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের রাজনৈতিক অবস্থান তাকে বাধ্য করেছিল অসঙ্গতিপূর্ণ প্রক্রিয়ার শিকার হতে, যা তিনি আর বহন করতে চান না।

মেজর (অব.) রঞ্জন আরও বলেন, “আমরা সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকতে চাই। সারাদেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মানুষ একটি সুন্দর ও কল্যাণময় রাষ্ট্র চায়, যেখানে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হবে।” তার এই মন্তব্য নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গণমিছিলে এবং সমাবেশে পাকুন্দিয়ার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থল ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। সমাবেশ ও গণমিছিলের মাধ্যমে নির্বাচনি তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক সাঈদ উজ্জ্বল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম রুহানি, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার, সেক্রেটারি মাওলানা আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ মমতাজ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য মাহমুদুল হাসান এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ফকির মাহবুবুল আলম। তাদের উপস্থিতি সমাবেশ ও গণমিছিলকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের গণমিছিল ও সমাবেশ স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রার্থী ও দলের দৃঢ়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের যোগদান নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ সদর বাজার এলাকা কার্যক্রমে সরব থাকে, যা স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে এমন সমাবেশ ও গণমিছিল প্রার্থী ও দলের জনমত যাচাই করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেজর (অব.) রঞ্জনের যোগদানের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীতে সমর্থকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে। নির্বাচনি প্রচারণার এই পর্যায়ে দলের নেতাদের উপস্থিতি ও সমাবেশের আকর্ষণ স্থানীয় রাজনৈতিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ