অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটসহ বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করেছে। এতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম একবারে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়। নতুন দর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হবে বলে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা করা হয়েছিল। বাজুসের এই ধারাবাহিক দর হ্রাস দুই দিনের মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫১৫ টাকা কমিয়েছে।
বর্তমান নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। অন্য ক্যারেটের ক্ষেত্রে দাম এভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর পরিবর্তন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মান এবং স্থানীয় জুয়েলারি বাজারের চাহিদা–প্রয়োজনের ওপর মূলত এই দর নির্ধারণ নির্ভর করে। বাংলাদেশে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বাজুসের প্রকাশিত দাম স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে সাধারণত প্রতিদিন বাজার খোলার সময় বাজুস দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে থাকে। ২২ ক্যারেটের ভরিতে মূল স্বর্ণের দাম নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দামও অনুপাত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।
এই ধরণের দাম পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য ওঠা-নামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাজুসের এ ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য রাখে।
স্বর্ণের এই হ্রাস মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, একই সঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয় কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বর্ণের দাম হ্রাস পেলে সোনার গহনার চাহিদা সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, যা স্থানীয় বাজারে লেনদেন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বাজুসের নিয়মিত দর-হ্রাস এবং বৃদ্ধি বাংলাদেশের জুয়েলারি বাজারে স্বচ্ছতা এবং মূল্যমান নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশীয় ক্রেতারা সাধারণত প্রতিদিনের দর অনুসারে স্বর্ণ কেনা-বিক্রি করে থাকেন, যা বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়ের একটি স্থিতিশীল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
এ ধরনের বাজার হালনাগাদ ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, বিশেষ করে উৎসবকাল এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজুসের প্রকাশিত দাম স্থানীয় বাজারের স্বর্ণের দর নির্ধারণে একটি মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়।


