আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ এই দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। তাঁদের বয়স ২৭ বছর। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তথ্য প্রদান করেছে।
জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে, নাহিদা এস. বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছেন। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর আকস্মিক অন্তর্ধানের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় দেখা গিয়েছিল। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী নিজস্ব ছাত্রাবাসে জামিলকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিং’ চত্বরে নাহিদাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের এক পারিবারিক বন্ধু তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টি অবহিত করেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করে। বর্তমানে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ যৌথভাবে এই নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তির ডেটাবেজে (Missing Persons Database) তাঁদের নাম ও পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হলে অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জামিল ও নাহিদা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে নেই। ফলে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ হওয়ার বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো হদিস না মেলায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে নিবিড় তদন্তাধীন থাকায় তদন্তের স্বার্থে শেরিফ অফিস বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে—যদি কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা এস. বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে বা তাঁদের কোথাও দেখে থাকলে, তা যেন অবিলম্বে স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো হয়।
বিদেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং এ ধরনের নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে পিএইচডির মতো গবেষণামূলক কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের অন্তর্ধান উচ্চশিক্ষা ও প্রবাসী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীরাও এই দুই শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।


