অপরাধ ডেস্ক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতর নামাজ পড়া অবস্থায় হাফিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে ফজর নামাজের সময় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা জসিম মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। মসজিদের নিয়মিত ইমাম অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি হাফিজ উদ্দিন নামাজের ইমামতি করছিলেন। জামাত চলাকালীন হাফিজ উদ্দিন যখন সিজদারত অবস্থায় ছিলেন, তখন অভিযুক্ত জসিম মিয়া অতর্কিতভাবে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনি গুরুতর জখম হন। মসজিদের অন্য মুসল্লি ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাফিজ উদ্দিন পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং এলাকায় একজন ধর্মপ্রাণ ও শান্তিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাতাত্তর বছর বয়সী এই বৃদ্ধের এমন মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে ধরে ফেলে এবং আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়।
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। অভিযুক্ত জসিম মিয়ার পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা সম্ভব হয়নি।
শ্রীমঙ্গল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তারা স্থানীয়দের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এলাকায় আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তের আগে থেকে কোনো প্রকাশ্য বিরোধ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নামাজরত অবস্থায় এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে, তাই দ্রুত বিচার ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে তা স্থিতিশীল রয়েছে।


