মুনাফার নতুন উচ্চতায় পূবালী ব্যাংক: লভ্যাংশ ঘোষণা ৩০ শতাংশ

মুনাফার নতুন উচ্চতায় পূবালী ব্যাংক: লভ্যাংশ ঘোষণা ৩০ শতাংশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান পূবালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ হিসাব বছরে নিট মুনাফার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ১ হাজার ৯০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতা ও তারল্য সংকটের মধ্যেও এমন প্রবৃদ্ধি পূবালী ব্যাংককে হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফার অভিজাত ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১২.৫ শতাংশ নগদ ও ১২.৫ শতাংশ বোনাসসহ মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। লভ্যাংশের এই হার বৃদ্ধি ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তির শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে।

আর্থিক সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক বছরে পূবালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাংক খাতের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ২১ শতাংশ বেড়ে ৯৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। উল্লেখ্য, একই সময়ে দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতে আমানত ও ঋণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১১ শতাংশ ও ৬ শতাংশ। ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) বর্তমানে ৭৪ শতাংশে অবস্থান করছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে সুষম বিনিয়োগ সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।

নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। এছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মুনাফা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি, যাদের মুনাফা ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। তৃতীয় ব্যাংক হিসেবে এবার ১ হাজার কোটি টাকার ক্লাবে যুক্ত হলো পূবালী ব্যাংক। এই সারিতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক, যাদের নিট মুনাফা ৯০০ কোটি টাকার উপরে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমানত ও ঋণের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে পূবালী ব্যাংক এই সাফল্য অর্জন করেছে। বোনাস লভ্যাংশের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ