১০৭ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন বিপিএম ও পিপিএম পদক; আগামীকাল শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ

১০৭ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন বিপিএম ও পিপিএম পদক; আগামীকাল শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ

জাতীয় ডেস্ক

সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ১০৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। আগামীকাল রবিবার (১০ মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোনীতদের হাতে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) তুলে দেবেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে এই পদক বিতরণের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। পদকের জন্য মনোনীত ১০৭ জন সদস্যের নাম, পদবি ও বর্তমান কর্মস্থলের তালিকা সম্বলিত একটি দাপ্তরিক চিঠি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মনোনীতদের আগামী ২ মে-র মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।

পুলিশের এই বার্ষিক পদক প্রদান প্রক্রিয়াটি মূলত বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় তাদের নিষ্ঠাকে উৎসাহিত করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। সাধারণত গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, জনসেবা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শনকারীদের এই সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক ৪০০ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ১১৭ জন এবং ২০২২ সালে ২৩০ জন সদস্য এই পদক পেয়েছিলেন। এবার ১০৭ জন সদস্যকে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্তটি গুণগত মান বজায় রাখা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কঠোরতা অবলম্বনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোগত এবং কার্যপ্রণালীতে ব্যাপক সংস্কারের দাবি ওঠে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত বছর পুলিশ সপ্তাহ অনেকটা সংকুচিত করা হয়েছিল এবং সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনে সীমিত রাখা হয়েছিল। তবে চলতি বছর চার দিনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাহিনীটির স্বাভাবিক চেইন অব কমান্ড এবং পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

আগামীকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে এই আয়োজনে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা আসে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জনে এবারের পুলিশ সপ্তাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাহসিকতার এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মেলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ