আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য আগামী দুই থেকে তিন দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় তেহরানকে নতুন করে ব্যাপক হামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে মার্কিন এই হুমকির বিপরীতে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে এক বিশেষ লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ও ভূরাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের এই চরমপত্রের পর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চলমান বৈরিতা এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারির পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ব্যাপক হামলার হুমকি দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বহিরাগত আক্রমণ প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংলাপ বা আলোচনায় বসার অর্থ কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করা নয়। তেহরান সর্বদা নিজেদের মর্যাদা, আঞ্চলিক কর্তৃত্ব এবং দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার মনোভাব নিয়েই যেকোনো ধরনের আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইরান মেনে নেবে না বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আলটিমেটাম বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এটি চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। চুক্তি সম্পাদনের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে কিনা, নাকি অঞ্চলটি নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


