অতিরিক্ত সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমছে, দুই বছরের মধ্যে গবেষণার নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

অতিরিক্ত সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমছে, দুই বছরের মধ্যে গবেষণার নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দেশের চাষযোগ্য মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পেয়ে উর্বরতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মাটির পুষ্টিগুণ ও উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিজ্ঞানীদের আগামী দুই বছরের মধ্যে কার্যকর গবেষণা ফলাফল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে টেকসই কৃষিনীতি ও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর খামারবাড়ির মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত বার্ষিক কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে কৃষি খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষির উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে দীর্ঘ সময় তীব্র শীত ও বরফের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হলেও বাংলাদেশে বছরজুড়ে ফসল ফলানোর অনুকূল আবহাওয়া রয়েছে। এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মাটির গুণাগুণ রক্ষা করা জরুরি।

মাটির অম্লতা বা পিএইচ () মান নিয়ন্ত্রণকে টেকসই কৃষির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাটির উর্বরতা পুনরুদ্ধারে বিজ্ঞানীদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলের মাটির পিএইচ মান এ নেমে এসেছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে আগামী দুই বছরের মধ্যে গবেষণার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের করতে হবে। এ সময় তিনি চাষাবাদের ক্ষেত্রে দুই ফসলের মধ্যবর্তী ১৫ দিনের বিরতি বা গ্যাপের উপযোগিতা নিয়ে নির্দিষ্ট এক বিঘা জমির ওপর প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনার জন্য বিজ্ঞানীদের তাগিদ দেন।

রাসায়নিক কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে আবহাওয়া, পরিবেশ, মাটি ও মানবস্বাস্থ্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দেশে আমদানিকৃত ও উৎপাদিত কীটনাশকের গুণগত মান আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পৃথিবী রেখে যেতে পরিবেশের ক্ষতি না করে কৃষি খাতের আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেন মন্ত্রী।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় কৃষি খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও আমলারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম। বক্তারা দেশের মৃত্তিকা সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও ফসলের ফলন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ