আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্জিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চীন। বেইজিং এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বিবেচনা করছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলার পর গত রবিবার দুই দেশ স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন শত্রুতার অবসান, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসছিল। ফলে এই চুক্তি বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
তবে এই সমঝোতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বেইজিং এখনই অতি-উত্সাহী না হয়ে বেশ সতর্কতা বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু দ্বিমত ও মতপার্থক্য নিরসন করা বাকি রয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্বাক্ষর পর্ব শেষ হলেও এর প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরও ৬০ দিন সময় লাগবে। ফলে চীনের কাছে এটি একটি সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক শুরু হলেও, একে এখনই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের চূড়ান্ত সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না দেশটি।
এই চুক্তির ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বেইজিং এই নতুন কূটনৈতিক পথকে সাধুবাদ জানালেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজের একক জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা থেকে চীন পিছু হটবে না। মূলত ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই চীন এই অঞ্চলের বিকল্প জ্বালানি রুট ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিতে অটল থাকবে।


