১৩ হাজার কোটি টাকার তিস্তা মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর

১৩ হাজার কোটি টাকার তিস্তা মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর

জাতীয়  ডেস্ক

রংপুর অঞ্চলের নদীভাঙন রোধ ও স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন।

শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ পরিদর্শন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কারিগরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মতবিনিময়কালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব তথ্য জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর অববাহিকা রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও টেকসই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির সুফল দীর্ঘমেয়াদে পুরো দেশের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব এবং নতুন কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ নিরসনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল প্রকল্পটির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরিতে নিয়োজিত আছেন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত করতে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শুষ্ক মৌসুমে যাতে নদীতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী কারিগরি ব্যবস্থাও এই প্রকল্পের মূল নকশায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মতবিনিময় শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন।

তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এমপি, রোকন উদ্দিন বাবুল এমপি, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ