১৪ মাস পর ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন, লক্ষ্য ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

১৪ মাস পর ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন, লক্ষ্য ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

জাতীয় ডেস্ক

অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত সূচি অনুযায়ী বছরে দুই বার এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর আর কোনো ক্যাম্পেইন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাসের এই স্থবিরতা কাটিয়ে আগামী ২৮ জুন রাজধানীসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ওই দিন সকালে রাজধানীর শাহবাগস্থ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এবারের ক্যাম্পেইনে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশুর বয়সভেদে ক্যাপসুলের রঙ ও লক্ষ্যমাত্রায় ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ Island ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে Bruch মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচিটি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রকে এই ক্যাম্পেইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভাসমান ও ভ্রমণরত শিশুদের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের এই সেবার আওতায় আনতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি দুর্গম ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু অনুসন্ধানের বিশেষ কার্যক্রম চালানো হবে, যাতে কোনো শিশুই এই পুষ্টিসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

জাতীয় এই কর্মসূচি তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বহুমাত্রিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিজস্ব টিমের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকবে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি কেবল অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ থেকেই শিশুদের রক্ষা করে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ প্রাপ্তি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমায় এবং সামগ্রিকভাবে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন এই কর্মসূচি বন্ধ থাকায় শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছিল, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে প্রথম এই কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটিকে আরও বেগবান করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের (এনআইডি) সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এটি এককভাবে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের স্থায়ী অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেশের সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ