জাতীয় ডেস্ক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা প্রকাশ করে এ উদ্বেগ ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিথ্যা মামলার চাপ এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচক্রের মাধ্যমে চলমান নির্যাতনের মধ্যেও তার অটল মনোবল ও দৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশের বহু প্রজন্ম তাকে সাহস, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে দেখেছে।
এনসিপি আহ্বায়ক তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে তার পূর্ণ আরোগ্য এবং সুস্থতা কামনা করা উচিত। বর্তমান সময়ে, যখন দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক উপস্থিতি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘমেয়াদী অবদান স্মরণ করে আমরা তার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনা করি। এই সময়ে তার সুস্থতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি দেশের যুবপ্রজন্মের মধ্যে সাহস, নেতৃত্ব এবং নৈতিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে তার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি গণতন্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে তার সুস্থতা পুনরায় রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নাহিদ ইসলামের এই বার্তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে। তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সুস্থতা এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে সংযোগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।


