দক্ষতা যাচাইয়ে ঢাকায় আজ ইসির মক ভোটিং

দক্ষতা যাচাইয়ে ঢাকায় আজ ইসির মক ভোটিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঢাকায় সার্বিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার দক্ষতা যাচাইয়ে দিনব্যাপী ‘মক ভোটিং’ আয়োজন করেছে। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৫০০ ভোটার অংশ নিচ্ছেন। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেসব প্রযুক্তি, জনবল, সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন, মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন একটি বিস্তৃত ও জটিল প্রক্রিয়া। ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়, ভোটারদের সেবা দিতে কোথায় উন্নতি প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সমন্বিত—এসব বিষয় যাচাই করাই প্রধান উদ্দেশ্য। মক ভোটিংয়ের পর্যবেক্ষণ ও ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্র বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা, ভোটকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা কিংবা সরঞ্জাম বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষামূলক এই ভোটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয়েছে বিভিন্ন বয়সী ও বিভিন্ন পরিচয়ের ভোটার গোষ্ঠীকে। এর মধ্যে আছেন প্রবীণ ভোটার, বস্তিবাসী, শিক্ষার্থী, হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রকল্পভুক্ত ভোটাররা। বৈচিত্র্যময় এই জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নির্বাচন দিবসে সম্ভাব্য ভিড়, সাহায্যপ্রার্থী ভোটারদের সংখ্যা ও সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা মূল্যায়নে সহায়ক হবে বলে কমিশন আশা করছে।

মক ভোটিং পরিচালনায় রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার আঞ্চলিক কর্মকর্তা। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকছেন দুজন কর্মকর্তা। এছাড়া ইসির নিজস্ব জনবল থেকে ছয়জন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োজিত আছেন। পাঁচটি কেন্দ্র পরিচালনায় মোট ১০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ২০ জন কর্মকর্তা। বাস্তব ভোটগ্রহণের মতো কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন, ভোটার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ব্যালট গ্রহণ, গণনা প্রক্রিয়া এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, ব্যালটপত্রের বিন্যাস, ব্যালট বাক্স ব্যবস্থাপনা, ভোটার যাচাই, গণভোটের প্রশ্নপত্র ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পৃথক ব্যবস্থাপনা—এসব ক্ষেত্রেই অধিকতর সমন্বয় জরুরি। একই কেন্দ্রে দু’ধরনের ভোটগ্রহণের কারণে ভোটারদের লাইনে সময় বৃদ্ধি, বুথে অতিরিক্ত চাপ, কর্মকর্তাদের কাজের চাপ এবং নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে এসব সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে পূর্বেই সমাধান নির্ধারণ করা হবে।

পর্যবেক্ষণের জন্য উপস্থিত রয়েছে বিদেশি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)। দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন ও বিয়ান মনি সোসাইটির প্রতিনিধিরা। পর্যবেক্ষকেরা সার্বিক পরিচালনা, ভোটার ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন, যা কমিশনের পরবর্তী পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাবে।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে বাড়তি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। ভোটারদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক জনবল বরাদ্দ, সহায়ক যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা, নিরাপত্তার সমন্বয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট আলাদা রাখার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। মক ভোটিংয়ের অভিজ্ঞতা এসব ক্ষেত্রে সময়োপযোগী নির্দেশনা দিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনব্যাপী চলমান এ মক ভোটিং থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে ব্যবহারের মাধ্যমে ইসি নির্বাচন ও গণভোটের দিনে ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ, সুষ্ঠু কেন্দ্র পরিচালনা ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল প্রদানে আরও সুসংহত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ