আবারও পেছাল সাংবাদিক দম্পতি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

আবারও পেছাল সাংবাদিক দম্পতি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া করা বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই হত্যার পর রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ দাখিল করার দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত সংস্থা তা দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নতুন দিন ধার্য করেছেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে থাকলেও, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলার তদন্ত র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে দায়িত্ব প্রদান করে। আদালত একই সঙ্গে নির্দেশ দেয়, তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও প্রতিবেদনের দাখিল হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং অগ্রগতি রয়েছে। এ কারণে তারা ৯ মাস সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আরজি করেন। গত ২২ এপ্রিল আদালত রাষ্ট্রপক্ষের এই আবেদন মঞ্জুর করে আরও ৬ মাস সময় দেয় এবং পরবর্তী আদেশের জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। তবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।

এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সকে আরও ৬ মাস সময় দেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, যা পরবর্তী শুনানিতে মামলার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পুনরাবৃত্তি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দেরি ঘটাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদনের দাখিল না হওয়া এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ন আদালতের কার্যকারিতা ও মামলার বিচারে জনগণের আস্থা প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমানে টাস্কফোর্স বিভিন্ন এজেন্সির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতও নিয়মিত এ বিষয়ে নজর রাখছে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে। এই মামলার সঠিক ও দ্রুত সমাধান সাংবাদিক সম্প্রদায় এবং সাধারণ জনগণের জন্য ন্যায়ের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া আরও কয়েক মাস বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আদালত ও তদন্ত সংস্থা পুনর্ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবেদন সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময়ের দেরি সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উদঘাটিত হয়।

আইন আদালত