জাতীয় ডেস্ক
ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে বলে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই যা দেখায় যে কামালকে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে।
এই মন্তব্য তিনি দিয়েছেন সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক সেশনে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “কামালকে যে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। অফিসিয়াল কোনো তথ্য নেই।’’
এর আগে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উল্লেখ করেছেন যে, ভারত আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে শুরু করবে। এই তথ্য প্রকাশের পর মিডিয়াতে এবং কূটনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
গত বছর জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দিল্লিতে হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য কূটনৈতিক চিঠি প্রেরণ করে।
এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে একই অনুরোধ জানায়। এই চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করার পাশাপাশি সাবেক নেতাদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কামালকে নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ধারা অনুসারে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সচরাচর গোপনীয়ভাবে আলোচনা করা হয়। ফলে, গণমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিহীন প্রচার হয়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ বিষয়ক কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক আইন এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষত, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির শর্তাবলী এ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে দেখা যায়, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও মিডিয়াতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। পররাষ্ট্র দফতর ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যই বিষয়টির যথার্থ চিত্র তুলে ধরে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয়টি নজরকাড়া অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা, দেশের আইনি এবং কূটনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে কার্যকর করা হবে।


