যুব ও ক্রীড়া খাতে ধারাবাহিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা

যুব ও ক্রীড়া খাতে ধারাবাহিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, পূর্ববর্তী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে যুব ও ক্রীড়া খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান দায়িত্বের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, সীমিত সময়ের মধ্যেই খাতটির শাসনব্যবস্থা জোরদার করা, দুর্নীতিবিরোধী অভিযোগগুলোর কার্যকর নিষ্পত্তি এবং রাজধানীর বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমকে গতিশীল করা অগ্রাধিকার পাবে।

সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী উপদেষ্টার সময় যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা খাতটির কাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই অর্জনগুলোকে ভিত্তি হিসেবে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যাতে চলমান কার্যক্রমে স্থবিরতা না আসে এবং নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান মেয়াদে সময়ের পরিধি সীমিত হলেও দায়িত্ব পালনে কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই মাসের স্বল্প সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে অবকাঠামোগত ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের অসম বিস্তার অন্যতম। এসব সমস্যা সমাধানে রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির পথ প্রশস্ত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, যুবসমাজ দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এবং তাদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা গেলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সে লক্ষ্যেই যুব উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে করে সরকারি উদ্যোগের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে যুব ও ক্রীড়া খাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সেগুলোর ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন উপদেষ্টার ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়িত হলে খাতটির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ কার্যকর হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা চ্যালেঞ্জিং হলেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিছু কাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি আগামী দিনে খাতটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ