নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপির এক নেতা মোরশেদ আলম শিব্বিরের মৃত্যু

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপির এক নেতা মোরশেদ আলম শিব্বিরের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবস উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় মোরশেদ আলম শিব্বির (৪৮) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তিনি বদলকোট ইউনিয়নের মুরাইম গ্রামের খামারবাড়ির আবদুল হকের ছেলে।

মরহুম শিব্বির বদলকোট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যদিও বর্তমানে তিনি প্রবাসে ছিলেন, তবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন এবং ছুটি শেষে পুনরায় দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বদলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জি এম ওমর ফারুক জানান, ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইসলামপুর বাজারে দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় হঠাৎ শিব্বির অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে দ্রুত চাটখিল উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।

হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিব্বিরের মৃত্যু হয়েছে।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকে হারিয়েছে। তার মৃত্যু দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শিব্বিরের মৃত্যু স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষত বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সময় এমন ঘটনা সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিএনপির মধ্যে তার রাজনৈতিক অবদানের স্মৃতিচারণ এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তার অবদান আলোচিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিব্বির ছিলেন দলের মধ্যে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা, যার নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বিশেষভাবে যুবদল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার অসুস্থতার সময় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনা চাটখিল উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নজর কেড়েছে। নেতাদের মতে, শিব্বিরের মৃত্যু দলের স্থানীয় স্তরে এক শূন্যতার সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, বিএনপি নেতৃত্বের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রেক্ষাপট, যা স্থানীয় স্তরে দলীয় কার্যক্রম এবং নেতাকর্মীদের মনোবল প্রভাবিত করতে পারে।

শিব্বিরের স্মৃতিতে স্থানীয় বিএনপি ভবিষ্যতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যা তার রাজনৈতিক অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। তার পরিবার এবং নিকটজনেরা দেশ-বিদেশে শোকাহত অবস্থায় রয়েছে, এবং প্রবাসে থাকা পরিবারের সদস্যরা শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছেন।

মরহুম শিব্বিরের মৃত্যু নোয়াখালী ও চাটখিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ