জেলা প্রতিনিধি
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এই ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাতের কোনো এক সময় হামলাকারীরা ভবনে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা ভবনের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে ভবনের চতুর্থ এবং পঞ্চম তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট পাঠানো হলে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভবনের ভেতরে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনার আগে, রাত ১২টার দিকে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রথমে দৈনিক প্রথম আলো এবং পরে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই সময় উক্ত পত্রিকার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে সেনা, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত সংবাদ বা প্রকাশনার বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ চালিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে হামলার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং হামলাকারীদের সনাক্তকরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ছায়ানট ভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার অফিস, লাইব্রেরি এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত কক্ষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটি সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ভবন চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের কার্যক্রমের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করতে হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা রোধে ধানমন্ডি ও আশেপাশের এলাকার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে দেশের সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক পরিবেশের ওপর। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া এবং সংবাদপত্রের অফিসে হামলার ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারী ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


