রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে নতুন সামরিক অভিযান না করার শর্তে শান্তিপ্রিয় সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে নতুন সামরিক অভিযান না করার শর্তে শান্তিপ্রিয় সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর আর কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালানো হবে না যদি পশ্চিমারা রাশিয়ার স্বার্থ ও সম্মানকে গুরুত্ব দেয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চলা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ ও অতীতের প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলেছেন।

পুতিন বলেন, “যদি পশ্চিমারা ন্যাটোর সম্প্রসারণকে পূর্ব দিকে না বাড়ায় এবং আমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে, তাহলে আর কোনো রাশিয়ান হামলা হবে না।” তিনি ১৯৯০ সালের প্রতিশ্রুতি উদ্ধৃত করে অভিযোগ করেন যে, ন্যাটো সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে যে আশ্বাস দিয়েছিল, সেটি থেকে সরে গেছে। যদিও পরে গর্বাচেভ এই মন্তব্য অস্বীকার করেন।

রাশিয়ার ‘ডাইরেক্ট লাইন’ ম্যারাথন অনুষ্ঠানে পুতিন রাশিয়ার মানচিত্রের সামনে বসে উত্তর দেন, যেখানে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলগুলো প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে রাশিয়ার অংশে যুক্ত ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত। তিনি রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কেও কথা বলেন।

পুতিন আবারও উল্লেখ করেন যে, তিনি শান্তিপ্রিয়ভাবে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে কোনো সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত দেননি। তিনি ২০২৪ সালের জুনে প্রদত্ত নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার চারটি অংশীদারিত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে এবং কিয়েভকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। রাশিয়ার প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ; যদিও প্রায় ২৩ শতাংশ ডোনেতস্ক অঞ্চল এখনও রাশিয়ার অধীনে আসেনি।

পুতিন শান্তির কথাই বলছিলেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হয়। একই সময়ে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে যে তারা ভূমধ্যসাগরে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে।

পুতিন আরও বলেন, তিনি ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন চান এবং ভোটাভুটির সময় হামলা বন্ধ রাখতেও রাজি। বর্তমানে মায়ামিতে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার তথ্য পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার এই অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধান ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ