খালেদা জিয়ার সমাধিতে পরিবারের শ্রদ্ধা

খালেদা জিয়ার সমাধিতে পরিবারের শ্রদ্ধা

রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে অবস্থিত সমাধি প্রাঙ্গণে তারা উপস্থিত হয়ে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাইমা রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরও জিয়ারত করেন তারা।
খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুই দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮১ সালে তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন, এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
খালেদা জিয়ার সমাধি জিয়া উদ্যানে অবস্থিত, যা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর ঢাকায় তাকে সমাহিত করার স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তী সময়ে একই প্রাঙ্গণে ২০১৫ সালে আরাফাত রহমান কোকোকেও সমাহিত করা হয়। ফলে স্থানটি বিএনপি ও জিয়া পরিবারের জন্য আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
শুক্রবারের কবর জিয়ারত মূলত পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও স্মরণ নিবেদনের একটি আনুষ্ঠানিকতা হলেও, এটি রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নির্বাচন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সমাধি পরিদর্শনকে দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক অবস্থান, পারিবারিক ঐক্য, এবং জিয়া পরিবারের প্রতি দলীয় সমর্থনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে অধিষ্ঠিত হননি, তবে তার উপস্থিতি ও জনপরিসরে বক্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।
সমাধি প্রাঙ্গণে জিয়া পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সুশৃঙ্খল। জিয়া উদ্যান সাধারণত জাতীয় দিবস, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পরিবারের কবর জিয়ারত উপলক্ষে নেতাকর্মী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে। এদিনও সকাল থেকেই উদ্যানের বাইরে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়, তবে পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ।
বিএনপির সাংগঠনিক সূত্রগুলো বলছে, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ নামক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে দলটি আত্মপ্রকাশ করে, যা দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণাকে ধারণ করে।
জিয়া পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার একটি পরিচিত দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্বের যে ধারা বিদ্যমান, বাংলাদেশেও তা বিভিন্ন দলের নেতৃত্ব কাঠামোয় দৃশ্যমান। বিএনপির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব এই ধারারই অংশ।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাবন্দি হন এবং ২০২০ সালে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় নিজ বাসভবনে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং সরাসরি রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলীয় কর্মসূচি তার নির্দেশনা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি দলের নীতিনির্ধারকদের।
সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জিয়া পরিবারের সদস্যরা স্বল্প সময় অবস্থান করে স্থান ত্যাগ করেন। এ ধরনের কবর জিয়ারত সাধারণত পারিবারিক স্মরণ ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হলেও, রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব কাঠামোর জন্য তা বার্তা ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, যা জনপরিসর ও রাজনীতির গতিধারায় প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনটি ৫০০–৮০০ শব্দসীমার মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকার রাজনীতি ডেস্কের প্রকাশনার উপযোগী করে রচিত।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ