ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের প্রার্থিতা-সংক্রান্ত তথ্য

ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের প্রার্থিতা-সংক্রান্ত তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক

ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা অনুযায়ী, গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন। নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত তফসিল ঘোষণার আগেই কার্যকর হওয়ায় তা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তপূরণে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র ও হলফনামা থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্বপালনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি ও জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ব্যবসায়ী পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক পদধারী হিসেবে তার আর্থিক বিবরণ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতার দাবি জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বার্ষিক আয়ের বিবরণে তিনি মোট ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা হিসেবে ৯৬ হাজার টাকা। এই আয় ২০১৮ সালের হলফনামার তুলনায় ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা কম, যখন তার বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা। সাত বছরের ব্যবধানে আয়ের এই নিম্নগমনকে ব্যক্তিগত পেশাগত আয়ের পরিবর্তন ও আর্থিক কাঠামোর ভিন্নতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তার হলফনামায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, যা সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়। অর্থাৎ, সাত বছরে অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা। বর্তমান অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, ৫০ লাখ টাকা শেয়ার-বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ এবং ৩০ লাখ টাকার একটি জিপ গাড়ি। তিনি অস্থাবর সম্পদের অংশ হিসেবে ৫০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করলেও এর আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করেননি। ২০১৮ সালের হলফনামায় বিয়ের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ৬০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ ছিল, যা বর্তমান হলফনামায় ৫০ তোলায় নেমে এসেছে।

স্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে তিনি ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন, যা বর্তমানে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে; অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ টাকা কম। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। ২০১৮ সালের হলফনামায় উত্তরাধিকার সূত্রে ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির উল্লেখ থাকলেও তখন এর মূল্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। সর্বশেষ হলফনামায় কোনো কৃষিজমির বিবরণ দেওয়া হয়নি; তবে অকৃষিজমির উল্লেখ নতুন সংযোজন হিসেবে এসেছে।

ঋণ-সংক্রান্ত বিবরণেও পরিবর্তন লক্ষণীয়। ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে তার নামে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ ছিল। বর্তমান হলফনামায় তিনি নিজের নামে কোনো ঋণের তথ্য উল্লেখ করেননি।

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদের উৎস, দায়-দেনা এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও সম্পদের উৎস, নগদ অর্থের পরিমাণ, স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ না করা এবং ভূমি সম্পদের মূল্য অনুল্লেখ সাধারণত গণপরিসরে প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা-সংক্রান্ত আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়। ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের প্রার্থিতা ও তার হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক ও আর্থিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে থাকছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ