আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কিউবার তথাকথিত ‘শান্তির অঞ্চল’ আজ নিষ্ঠুর হামলার শিকার হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর নয়, বরং বৃহত্তর অর্থে লাতিন আমেরিকার ওপর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখেছেন।
দিয়াজ-কানেল তার পোস্টে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের হামলা শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তু দেশকে নয়, সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং শাস্ত্রবিধি বিপন্ন করছে। পোস্টের শেষে তিনি কিউবার বিখ্যাত বিপ্লবী স্লোগান উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, জয় আমাদের নিশ্চিত।’
উল্লেখ্য, একই দিন ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করেছে বলে দাবি করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলা হয়েছে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার উপর এই সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান কেবল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নয়, বরং অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস বিবেচনায় এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
অভিযোগ অনুসারে, অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কিউবা, মেক্সিকো ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলো এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিকট জরুরি তদন্ত ও পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংকুচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, কিউবার প্রেসিডেন্টের তীব্র নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান, এ ঘটনায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্বরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত বিশ্লেষণ শুরু করেছেন।


