শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ : শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে সামাজিক–রাজনৈতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব মঞ্চের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ কর্মসূচিটির সাংগঠনিক আয়োজন সমন্বয় করছে। কর্মসূচি আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরকার, রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে সহযোগিতা চাইবেন।

সংগঠনটি জানায়, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন এবং আইনগত অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ৭ জানুয়ারির পর সংগঠনটি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। শনিবার রাজধানীতে কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে সংগঠনের নেতারা জানান, তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সম্ভাব্য সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ ও জনমত সংগঠনের কাজও করবেন।

সংগঠনের নেতারা সময়সীমা নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য সময় পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনপরিসরে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, যা নিহতের পরিবার ও সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা দাবি করেন, একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধী শনাক্ত ও অভিযোগপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিচারিক কাঠামোর ওপর আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। সংগঠনটি তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি বাড়াতে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সমন্বয়কদের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক–রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। গত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে (নির্দিষ্ট তারিখ ড্রাফটে উল্লেখ না থাকায় প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট দিন সংযোজন করা হয়নি) তিনি অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানায় তার পরিবার ও সহপাঠীরা। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন মহলে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কর্মসূচির সময় সংগঠনের কয়েকজন নেতা ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারা বলেন, বিচার দাবি কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক প্রভাব–সংক্রান্ত আলোচনা উঠলে তা অবশ্যই প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ পরিসরে হওয়া উচিত, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি না হয় এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। তবে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য, অবস্থান বা দাবি প্রচারণামূলক ভাষায় উপস্থাপন না করে কেবল ঘটনার তথ্যগত সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখলেও বিচারিক অগ্রগতির দৃশ্যমান ধাপ দ্রুত দেখতে চান। হাদির সহপাঠীরা জানান, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ এবং দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ কমে আসবে। তারা মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক–রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো হত্যাকাণ্ডে সময়সীমাভিত্তিক তদন্তের দাবি উঠলে রাষ্ট্রের বিদ্যমান ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারিক কাঠামো, সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহের সক্ষমতা, অপরাধের ধরন এবং তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিচার দাবি কর্মসূচি গণতান্ত্রিক পরিসরে জনমত সংগঠনের অংশ হলেও বিচার সম্পন্ন হওয়ার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা আইনগতভাবে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার এখতিয়ার–সংশ্লিষ্ট বিষয়। ফলে এই দাবির বাস্তবায়ন বিচারিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে কীভাবে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা রাষ্ট্র, তদন্তকারী সংস্থা, আদালত এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের ওপর নির্ভর করবে।

দেশের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় সমন্বয়করা জানিয়েছেন, মার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নাগরিক মতামত, স্থানীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় তদন্ত–সহায়তা টিমের কাছে জমা দেবেন। এই তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহ করা হলে তা তদন্তে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সার্বিকভাবে, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি একটি চলমান বিচার দাবি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত এটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সংগঠনটি আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চাওয়ার কথা বলেছে। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্য তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত থেকে প্রকাশ করা হলে জনপরিসরে এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ