রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকার ১৩টি আসনে জমা করা মোট ১৭৪টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১১৯টি বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে বিভিন্ন তথ্যগত ত্রুটি ও অন্যান্য কারণে ৫৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া একটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। পরে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কমিশন এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে।
ঢাকার ১৩টি আসনে মোট ২৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সবশেষ যাচাই-বাছাই কাজ শেষ হয়েছে শনিবার। এই কার্যক্রম তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তারা হলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে:
-
ঢাকা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল হক।
-
ঢাকা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাদ্দেদ আলী বাবু ও মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক।
-
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা।
-
ঢাকা-১৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামান ও আমজনতার দলের প্রার্থী রাজু আহমেদ।
-
ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তানজিল ইসলাম।
-
ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।
জাচাই-বাছাই শেষে আরও ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তবে এ পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ২৪৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। আসন অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ছিল: ঢাকা-১ (৮টি), ঢাকা-২ (৩টি), ঢাকা-৩ (১৬টি), ঢাকা-৪ (৮টি), ঢাকা-৫ (১৬টি), ঢাকা-৬ (৭টি), ঢাকা-৭ (১৫টি), ঢাকা-৮ (১২টি), ঢাকা-৯ (১৪টি), ঢাকা-১০ (১৩টি), ঢাকা-১১ (১১টি), ঢাকা-১২ (১৮টি), ঢাকা-১৩ (১১টি), ঢাকা-১৪ (১৩টি), ঢাকা-১৫ (৯টি), ঢাকা-১৬ (১৩টি), ঢাকা-১৭ (১৭টি), ঢাকা-১৮ (১৭টি), ঢাকা-১৯ (১১টি) ও ঢাকা-২০ (৭টি)।
নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রার্থীরা যদি আপিল করে তবে কমিশন তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে এটি গণ্য হচ্ছে।


