দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে : ব্যারিস্টার রুমিন

দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে : ব্যারিস্টার রুমিন

রাজনীতি ডেস্ক

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ৪ জানুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকায় শ্রীশ্রী পাগল মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি, বরং এতে তাঁর প্রতি সমর্থন বেড়েছে। তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন না উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই তাঁর মূল শক্তি। নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বহিষ্কারের ঘটনা মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যার ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বহিষ্কারের ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ বা রহস্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন, তবে তাঁর মতে, জনগণ বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে দেখেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরপরই একাধিক নেতাকে বহিষ্কার করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য, খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফনের আগেই একযোগে ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং এটি তাঁর জনসমর্থন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির একজন পরিচিত মুখ ছিলেন এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিচিতি লাভ করেন। বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য প্রদান ও সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আশুগঞ্জ উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ উপজেলায় শিল্প–বাণিজ্য, নদীবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ অবকাঠামোর কারণে জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আশুগঞ্জের ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য না হলে স্বতন্ত্র বা বহিষ্কৃত প্রার্থীর প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায়, বিশেষত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, দলীয় প্রতীকের বাইরে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ধর্মীয়–সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক একটি প্রার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় পরিচয়ের বাইরে স্থানীয় জনগণের সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়া তাঁর নির্বাচনী কৌশলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ থাকা বাধ্যতামূলক। যেহেতু রুমিন ফারহানা নিজেকে কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন, সে ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, যদি তিনি প্রার্থিতা সংক্রান্ত আইনি শর্ত পূরণ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হলে, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসম্বলিত সমর্থন তালিকা জমা, জামানত প্রদান, হলফনামা দাখিল এবং আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রেক্ষাপটে, বহিষ্কৃত নেতাদের স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সমর্থন বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও, সেটি বাস্তব ভোটে রূপান্তর, সাংগঠনিক কাঠামোর সমর্থন, প্রচারণার সক্ষমতা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক, ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণী ভূমিকা রাখে। বিগত নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, বহিষ্কার বা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার ঘটনাও রয়েছে, আবার জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও সংগঠন ও নির্বাচনী কাঠামোর দুর্বলতায় পরাজয়ের নজিরও রয়েছে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আতাউর রহমান বাবুল, নাসির উদ্দিন মুন্সি, রাসেল বিপ্লব ও হেলাল মিয়া। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক–রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত এসব ব্যক্তির উপস্থিতি থেকে ধারণা করা যায়, তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে স্থানীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, দল থেকে বহিষ্কারের পর বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা, প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচনী কৌশল ও সাংগঠনিক অবস্থান বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের ক্ষেত্রে দলীয় পর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রচারণায় বাধা–নিষেধ, কর্মী–সমর্থকদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পুনর্বাসন–সংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের পর তাঁর জনসমর্থন বৃদ্ধি পেলেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি দাবি পর্যায়ের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। বাস্তব ভোটের ফলাফল, প্রচারণা–পর্ব, আচরণবিধি প্রতিপালন, আইনগত প্রার্থিতা বৈধতা এবং স্থানীয়–জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পরই তাঁর নির্বাচনী সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারিত হবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ