ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর জরুরি অবস্থা, বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর জরুরি অবস্থা, বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর দেশটির সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুতিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো শনিবার রাতে এক ঘোষণায় বলেন, সাম্প্রতিক এই অভিযানকে সরকার দেশের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার পরপরই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে কৌশলগত অবস্থানে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর নির্দেশে প্রতিরক্ষা বলয়ের আওতায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সামরিক অভিযান শুধু রাজধানী কারাকাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও বিস্ফোরণ ও সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে এসব এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে।

রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এক বার্তায় বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক এই হামলার পেছনে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিক কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভোরের দিকে ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বড় পরিসরের’ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রপতি মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা। তবে কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে মাদুরোর গ্রেপ্তারের জন্য অর্থ পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়েছিল। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি এবং রাষ্ট্রপতি দেশেই অবস্থান করছেন বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার প্রশাসন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি তুলছেন। দেশটির মতে, কোনো ধরনের একতরফা সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনার ফলে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে, যার প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। সামরিক উত্তেজনা বাড়লে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গুজব এড়িয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করবে উভয় পক্ষের অবস্থানের ওপর।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ