রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় অটল রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও সতর্ক ও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ সভায় দেয়া হয়েছে। তিনি সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেন, তারা যেন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যদি কোনো জায়গায় রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হবে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলা ও বিচার কার্যক্রম, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযান জোরদারকরণ, সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


