জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গ ণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া গত ১৮ নভেম্বর শুরু হয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন।
প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে, যেখানে ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন ভোটার নিজেদের নিবন্ধিত করেছেন। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। দেশে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে কুমিল্লা শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এরপর ঢাকা জেলা ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রাম জেলা ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ভোটারের নিবন্ধন দেখাচ্ছে। আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৯৩ জন ভোটার সর্বোচ্চ সংখ্যা গড়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০১।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ দিনে বিশ্বের ৮১টি দেশে অবস্থানরত ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের ভোটারদের কাছে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৪৩টি ব্যালট পৌঁছে গেছে।
ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন, “ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। যেসব ভোটারের ঠিকানায় ত্রুটি রয়েছে, তাদের সংশোধিত ঠিকানা প্রদানের জন্য মেসেজ পাঠানো হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তির সময় আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তা হাতে পৌঁছাবে। তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের দায়িত্ব, লঙ্ঘন হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক হতে পারে।”
উল্লেখ্য, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন। ১৮ নভেম্বর উদ্বোধিত এই সেবা বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধিত হতে সক্ষম হয়েছেন।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার এই সাফল্য নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রবাসী ভোটারের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি দেশের ভোটাধিকার ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


