অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পন্ন করা হবে।
আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পৃথক সভায় সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তবে জানুয়ারি বা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘মাত্র একটি ছোট বিষয় বাকি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটি কার্যকর হবে।’’
ড. সালেহউদ্দিন স্বীকার করেন, পূর্বের আশ্বাস সত্ত্বেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এনবিআর বিভাজন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে প্রক্রিয়াটি সঠিক পথে রয়েছে এবং কেবল কিছু বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়াটি পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই’’।
এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত করা। এক বিভাগ থাকবে কর নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে, অন্যটি রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনের দায়িত্বে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী নেতাদের দীর্ঘদিনের সুপারিশ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো যায়।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়—রাজস্ব নীতি বিভাগ (আরপিডি) এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আরএমডি)।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর নীতি প্রণয়নের কার্যক্রমকে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম থেকে আলাদা করার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এই কাঠামোগত সংস্কারকে বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনবিআর বিভাজন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে কর নীতি ও রাজস্ব আদায়ের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে কর নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জটিলতা কমে আসবে এবং কর আদায় কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ হবে। এছাড়া, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই সংস্কার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সরকার আশা করছে, আগামী নির্বাচনের আগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে অর্থনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আরও সহজ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


