আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম জাপানের শিমানে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি অগভীর গভীরে ঘটেছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করেনি এবং প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৮ হিসেবে রেকর্ড করেছে।
জাপানের শিন্ডো স্কেলে ইয়াসুগি শহরে কম্পনের মাত্রা ‘উচ্চ পাঁচ’ হিসেবে ধরা পড়েছে। এই মাত্রার কম্পনে ভারী আসবাবপত্র পড়তে পারে এবং যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। জেএমএ আরও জানিয়েছে, একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে ৪.৫, ৫.১, ৩.৮ ও ৫.৪ মাত্রার কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এসব পরাঘাতের ক্ষেত্রেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ভূমিকম্পের পর শিমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং চুগোকু ইলেকট্রিক বিদ্যুৎ কোম্পানি জানিয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তা ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাপানের সামরিক বাহিনী আকাশপথে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য জরিপ চালাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করেছে। ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানের এই অঞ্চলে প্রায়শই পরাঘাত ঘটার কারণে জরুরি প্রস্তুতি ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত পৃষ্ঠে শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি করে, যা সাময়িক আতঙ্কের কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের মানবিক বা অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনে জনসাধারণকে সতর্ক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিমানে ভূমিকম্পের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পরাঘাত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপডেট দেওয়া হবে।


