রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ডা. তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পর তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পদত্যাগের আগে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে যারা তহবিল ফেরত চাইবেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ডা. জারা জানান, যারা টাকা ফেরত চাচ্ছেন, তাদের জন্য ফরম পূরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো ফেরত চাননি, তাদেরকেও অনুরোধ করা হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যথাযথভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ডা. তাসনিম জারা ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের দিনই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়ায় ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ৩ জানুয়ারি জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে দুইজন স্বাক্ষরের মধ্যে তফাৎ দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডা. জারা আপিল করেছেন। আপিল প্রক্রিয়া শেষে কমিশন তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা পুনর্বিবেচনা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রাউড ফান্ডিংয়ের টাকা ফেরতের বিষয়টি স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জটিলতা ও প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধতা যাচাইয়ের গুরুত্বও তুলে ধরছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করার আগে ডা. জারা ঢাকা-৯ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ভোটারদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী প্রার্থনা ও ভোটারদের মতামত সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত হয়নি এবং তিনি আপিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রক্রিয়ায় তহবিলের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই ডা. জারার মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।


