অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকার দেশের কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় সোমবার (৬ জানুয়ারি) থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি স্থগিত করেছে। তবে পূর্বে অনুমোদিত আমদানিকৃত চালানগুলো আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রবেশ করতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসেবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আমদানিকারকরা জানান, নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সহ-সভাপতি ও মেসার্স রায়হান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমদানি অনুমতি বন্ধের ফলে সোমবার থেকেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আগের দিন ৪৬ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ সোমবার বিক্রি হয়েছে ৫৪ থেকে ৬২ টাকায়।”
দেশীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে নতুন পেঁয়াজ প্রচুর পরিমাণে এসেছে। ফলে আমদানির স্থগিতাদেশের কারণে বাজারে দাম দ্রুত বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেনও জানান, আমদানির স্থগিতাদেশের কারণে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সোমবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। নতুন ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, এবং পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার আগেই আমদানির অনুমতি দিয়ে আসছিল। সোমবারও পূর্বে অনুমোদিত চালানগুলো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করেছে। তবে নতুন আমদানির জন্য অনুমতি বন্ধ থাকায় আগামী সময়ে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সরকারি নীতিমালার উদ্দেশ্য দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং স্থানীয় পেঁয়াজের উৎপাদন ও বাজারকে সঠিকভাবে সমর্থন দেওয়া। আমদানি স্থগিত হলেও বাজারে পর্যাপ্ত দেশি পেঁয়াজ থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, আমদানির পূর্বের অনুমোদিত চালানগুলো দেশের সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ভোক্তা ও কৃষক উভয়ের স্বার্থে আমদানির এই সময়োপযোগী স্থগিতাদেশ এক ধরনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ না হলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।


