অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের আস্থা রক্ষার জন্য আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিস্তারিত ও সঠিক প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠান নির্দেশনার আওতায় থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে।
নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো এই অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সম্পর্কিত বিস্তারিত ও সঠিক তথ্যের প্রতিবেদন নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা, পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা রক্ষা করা হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, তথ্য প্রদানের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে। নতুন বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে তাদের ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের স্থিতি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে করা বিনিয়োগ, ট্রাস্ট ফান্ডস ইন ট্রানজিট এবং ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
তথ্যগুলো নির্ধারিত ফরম্যাট (টেমপ্লেট) ব্যবহার করে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা অমান্য বা ভুল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ৩৭(৩) ধারার অধীনে মিথ্যা তথ্য প্রদান আদালতে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই আইনের ৪১ ধারার অধীনে জরিমানা আরোপের ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংরক্ষণ করেছে।
পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ১৮(৪) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম প্রণয়নের ফলে পেমেন্ট সিস্টেমে আরও স্বচ্ছতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।


