সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টাসহ দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টাসহ দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা

আইন আদালত ডেস্ক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। জুলাই ২০২১ সালের অভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিন আসামিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার পাশাপাশি অব্যাহতির জন্য আদালতে শুনানি দেবে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন– বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সকাল ১০টার পর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে পুলিশের কড়া পাহারায় ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। আগের শুনানিতে, গত ২২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেছে। ওই সময় ট্রাইব্যুনালে তাদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল, যা প্রসিকিউশন দাবি করে হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রসিকিউশন পক্ষের মতে, ওই ফোনালাপের মাধ্যমে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করার’ নির্দেশনা জারি হওয়ার পর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালে বাজানো ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় দাবি করে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদন জানান। তবে ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন খারিজ করে নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া, মুনসুরুল হক ১০ ডিসেম্বর তার মক্কেলদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন দাখিল করেছেন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে পাঠ করেন। এর আগে ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে আদালত তা গ্রহণ করেছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষ তাদের আইনি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবেন এবং অব্যাহতির জন্য আবেদন করবেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ