অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের স্বর্ণবাজারে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণমূল্য ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল।
বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দর বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতনপদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হারে পার্থক্য থাকতে পারে।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বাজুস আগের সমন্বয় অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তৎকালীনভাবে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতনপদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা। এই দাম কার্যকর হয়েছিল ৫ জানুয়ারি থেকে।
২০২৬ সালের এই পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম তিনবার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে দাম দুই দফা বৃদ্ধি এবং এক দফা হ্রাস করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের বাজারে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস ঘটেছিল।
স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৮৫ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতনপদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে রুপার দাম দুইবার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে একবার বৃদ্ধি এবং একবার হ্রাস হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস ঘটেছিল।
এই সমন্বয়গুলোর ফলে দেশে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য আপেক্ষিক মূল্যমান ও লেনদেনের পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে।


