আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের আনা অষ্টম সাক্ষী জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু ও সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া আগের মতো নিয়মিত চলবে।
২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ দাখিল করে। সেই শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেন। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণে প্রসিকিউশন ২০ জন সাক্ষীর তালিকা দাখিল করেছে। এছাড়া নথি হিসেবে তিনটি অডিও রেকর্ডিং এবং ছয়টি ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে।
ইনু ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে নতুন সাক্ষী এবং নথিপত্র উপস্থাপন করা হবে, যা বিচারিক সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


