রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহামদ তাহেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশনে যাবে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সাক্ষাৎ শেষে দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সাক্ষাৎ সভার আগে বুধবার সকালে রাজধানীর জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কার্যক্রম দেখে তাঁর দল শঙ্কা করছে যে নির্বাচন আগের মতো পক্ষপাতদুষ্টভাবে পরিচালিত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে জানান, এমন পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে।
ডা. তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলকে জানান যে, আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। তবে তার মন্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রশাসন একটি দলকে অযথা প্রাধান্য দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে। এছাড়া, দলের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী আসন সমঝোতা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। সম্প্রতি এনসিপিকে ১০টি আসন দেয়ার যে তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা তিনি ‘কাল্পনিক’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এদিনের ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটি দেশব্যাপী রাজনৈতিক সংলাপ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সাক্ষাৎ ও বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নির্বাচনের আগে কমিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সকল রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে।


