প্রবাস ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত ৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী ভোটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ডাকযোগে প্রেরণ কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলছে। একই দিন বিকেল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলটির অন্য সদস্যরা হলেন— সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলটির পক্ষ থেকে সংবাদ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী নাগরিক পোস্টাল ভোটিং ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন। যদিও নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৭.৭২ লাখের বেশি, প্রথম ধাপে ৬.৭৭ লাখ ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় ৪১ হাজার ৪৬৪ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের কাছে ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে ১২ হাজার ব্যালট। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছেও ধাপে ধাপে ব্যালট পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট প্রেরণের সময়সীমা প্রসঙ্গে টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন, ১০ জানুয়ারির মধ্যে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছে দিতে কমিশনের ডাকবিভাগ ও প্রকল্প টিম সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ব্যালট প্রেরণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। ব্যালট পৌঁছানোর পর ভোটারদের ভোট প্রদান ও পুনরায় ব্যালট ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ট সময় রাখা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ব্যালটের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা প্রসঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলেছেন, ব্যালট প্রাপ্তির পর সেটির গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের আইনগত দায়িত্ব। ব্যালটের তথ্য, সিল, ভোট চিহ্ন বা ব্যালট–সংক্রান্ত কোনো উপাদান প্রকাশ বা প্রদর্শনের মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হলে তা জাতীয় পরিচয়পত্র–সংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ হতে পারে। কমিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রবাসী ভোটার ব্যালটের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সাময়িকভাবে ব্লক করার মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এটি মূলত ভোটিং ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, ব্যালটের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন–প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তার আগে প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছানোর বিষয়ে কমিশন আশাবাদী। প্রকল্প টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তি–সমন্বিত বৃহৎ পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্বাচন–বিশ্লেষক ও কমিশন–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি প্রবাসী নাগরিকদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করার পাশাপাশি নির্বাচনী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নির্বাচন–ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন হিসেবে ভূমিকা রাখবে। তবে এ ব্যবস্থার সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে— ব্যালটের নিরাপত্তা, সময়মতো পৌঁছানো, সঠিকভাবে ভোট প্রয়োগ এবং বিধি অনুযায়ী পুনরায় ব্যালট ফেরত পাঠানোর সমন্বিত প্রক্রিয়ার ওপর।
নির্বাচন–প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট গ্রহণ, ভোট প্রদান এবং ব্যালট ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত নির্দেশনা কমিশনের পক্ষ থেকে অ্যাপ–নোটিফিকেশন, ইমেইল, এসএমএস এবং দূতাবাস–সমন্বয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


