বরিশাল বিএনপিতে নির্বাচনী আগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তীব্রতা পাচ্ছে

বরিশাল বিএনপিতে নির্বাচনী আগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তীব্রতা পাচ্ছে

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিএনপির মধ্যে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। দলের একাংশ নেতারা অন্য অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে, আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপির মিছিলে অনুপ্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতি দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রবণতাকে ‘আশঙ্কাজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

অনুপ্রবেশের অভিযোগটি জোরালো হয় গত বিজয় দিবসের একটি ঘটনার পর। তথ্য অনুযায়ী, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর নিগার সুলতানার দুই ভাই—মাসুদ হাসান দুলাল ও জসিম উদ্দিন—বিএনপির মিছিলে অংশ নেন। তারা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাদের আশ্রয়ে তারা দলে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্যসচিব আমির খসরু বলেন, “তারা আগে বিএনপিতে ছিলেন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপের কারণে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তবে বিতর্ক থাকলে তাদের মিছিলে ডাকা হবে না।”

বরিশাল-৫ আসনের নেতা ও সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী আনোয়ারুল হক তারিন অভিযোগ করেন, “যারা আওয়ামী লীগের লোক এনে দল ভারী করছে, তাদের খুঁজে বের করা উচিত। যারা খুনি ও দখলদারদের মিছিলে ঢুকাচ্ছে, তারা অপরাধী। তাদের কৈফিয়ত তলব করা হবে।”

নগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবিরও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। তিনি সম্প্রতি এক সভায় সতর্ক করেছেন, “আওয়ামী লীগের প্রভাব আছে এমন কাউকে দলে আনবেন না। যারা জুলাই আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ছিল, তারা এখন ধানের শীষের মিছিলে অংশ নিচ্ছে। যাদের নিজস্ব জনবল নেই, তারা এসব অনুপ্রবেশকারী ঢোকাচ্ছে।”

জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা কখনো বিশ্বস্ত হয় না, তারা বিশ্বাসঘাতক।” তিনি অভিযোগ করেছেন, নগরের প্রায় সব এলাকায় অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করেছে, যা দলের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনী মিছিলে ঢুকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা নাশকতা চালাতে পারে এবং বিএনপির উপর দায় চাপাতে পারে। তিনি জানান, এই বিষয়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের দলীয় ফোরামে সতর্ক করা হবে।

বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ