বাংলাদেশে ক্রিকেট  সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ভারতের আইপিএল বিতর্ক

বাংলাদেশে ক্রিকেট সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ভারতের আইপিএল বিতর্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, দলটি বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সাক্ষাৎ শেষে তারা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।

অন্যদিকে, ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাসকে দেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করার পর ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও ক্রিকেট প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও জনতা দলের (ইউনাইটেড) শীর্ষ নেতা কেসি ত্যাগি বিসিসিআইকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছেন।

কেসি ত্যাগি বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। তিনি ভারতের সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়গুলো বিবেচনা করছেন, যা ক্রিকেটের ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলছে। ত্যাগি বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে খেলাধুলার কোনো দেনদরবার নেই। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করা এবং একই সময়ে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া একটি মিশ্র বার্তা দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের আবেগ কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। তবে খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতির আধিপত্য থাকা উচিত নয়। ত্যাগি লিটন দাসের অধিনায়ক হওয়াকে বাংলাদেশ সরকারের শক্ত বার্তা হিসেবে দেখেছেন, যা দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ নজর কেড়েছে। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংরক্ষণকারীদের মধ্যে প্রশংসিত হলেও ভারতের কিছু রাজনৈতিক মহলে তা সমালোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খেলার মাঠে এমন নীতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল্যবোধ এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংরক্ষণের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে।

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ধর্ম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সহমর্মিতা ও সাম্যবাদী নীতি উদ্ভাসিত হয়েছে। খেলার মাধ্যমে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক খেলার মঞ্চে সমতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ