আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি আপডেট করা ভিসা বন্ড তালিকায় নতুন করে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
এ তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ৩৭টি দেশ যুক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকরা ভিসা বন্ডের আওতায় পড়বে। ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক জামানত, যা মূলত সেই দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ভিসা আবেদন করেন এবং যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে তারা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর দেশ ছাড়বেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই আপডেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সাধারণত, ভিসা বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর ভিসার ধরন, ভ্রমণের মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি নতুন প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা ব্যবসা, শিক্ষা বা দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জামানত জমা দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে। ভিসা বন্ড প্রদান না করলে ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা বিলম্ব ঘটতে পারে।
এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিদেশে ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকা নাগরিকদের আগে থেকে আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া, ভিসা বন্ড সংক্রান্ত নিয়মাবলি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কিত পরামর্শের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভিসা বন্ডের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এবং শিক্ষাবৃত্তি, ব্যবসা বিনিময় ও পর্যটন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সময়মতো আর্থিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখার বিষয়টি এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।


