বিএনপি বহিস্কৃত নেতাদের পদ ফিরে দিল

বিএনপি বহিস্কৃত নেতাদের পদ ফিরে দিল

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৫ নেতার বহিস্কারাদেশ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুর কবির রিজভীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী আচরণের কারণে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, খুলনা, নেত্রকোনা, গাজীপুর ও ফরিদপুর জেলার মোট ১৫ নেতা-কর্মীকে। তাদের মধ্যে ছিলেন বাহুবল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোছা আলফা বেগম, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কছির আলী, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন, চৌহালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহফুজা খাতুন, সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য খাজা আহাম্মদ সরদার, ফেনী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুলাল, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহসিন পাটোয়ারী, ফেনী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান পিয়ারু, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহেনা বেগম, মোহনগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ মিয়া, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হারিজ উজ্জামান হারিজ এবং চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ এবং নওগাঁ জেলার সাবেক সদস্য ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোছা ফাতেমা খাতুনকেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব নেতার আবেদন পর্যালোচনার পর ৬ জানুয়ারি তাদের বহিস্কার ও অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে তারা পুনরায় দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদে অংশগ্রহণের অধিকার ফিরে পেয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিএনপি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক মতবৈষম্য দূর করার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের মতো ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমন্বয় ও নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “দলের নীতি ও আদর্শ রক্ষা করতে নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বহিস্কার ও অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আমরা ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এমন পদক্ষেপ দলকে কেন্দ্রশাসিত নির্বাচনী পরিবেশে শক্তিশালী এবং সমন্বিত অবস্থানে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এটি বিশেষ করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পুনরায় দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে রাজনীতির গভীর ভিত্তি শক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির এই পদক্ষেপের ফলে নেতাকর্মীরা পুনরায় দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ