আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অনুমোদিত কাঁচা তেল সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হবে। তিনি এক পোস্টে বলেন, বিক্রি হওয়া তেল বাজারমূল্যে বাজারজাত করা হবে এবং তাতে অর্জিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তেল স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে এবং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের আনলোডিং ডকে আনা হবে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এর আগে গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। তাদের বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার রাতে তারা বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পুত্র নিকোলাস মাদুরো গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য গুয়েরাকে মামলায় ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের সরাসরি হস্তান্তর এবং মাদুরো পরিবারকে আটক করা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নির্দেশ করছে। তেল আমদানি ও বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়ার সমন্বয় এখন বিশ্ববাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার তেল বিশ্বের অন্যতম বড় রিজার্ভ হওয়ায় এবং দেশটির অর্থনীতি তেলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের সরাসরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভেনেজুয়েলার ভেতরের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও বিশ্বে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক নজর রাখছেন।


