রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনে নয়, সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর উপলক্ষে রাজধানীর বাঁশতলায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কনগ্রেস (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে এক আধিপত্যবিরোধী মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে প্রায় ১০০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
মার্চটি বাঁশতলায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেডের মাধ্যমে সেটিকে সাময়িকভাবে আটকানো হয়। উপস্থিত কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যার মধ্যে ছিল, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও জনগণ’, ‘কাঁটাতারের ফেলানী, আমরা তোমাকে ভুলিনি’, ‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর, ইন্ডিয়া নো মোর’, ‘এক-দুই-তিন-চার, ইন্ডিয়া তুই হুঁশিয়ার’ এবং ‘ভারতের গোলামি চলবে না, চলবে না’।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, এই মার্চের উদ্দেশ্য সীমান্তে সংঘটিত ফেলানী হত্যার স্মরণে ন্যায়বিচার ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকে তুলে ধরা এবং ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করা। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান ও অবস্থানপত্র পাঠের মাধ্যমে তাদের মূল দাবি তুলে ধরেন।
ফেলানী হত্যা ২০০৬ সালের ৭ জানুয়ারি সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত হয়। সে সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে।
রাজধানীতে এই ধরনের কর্মসূচি মূলত সীমান্ত সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর এই দিনটিকে স্মরণে আনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচলের প্রভাব বিবেচনায় করে প্রশাসন ব্যারিকেড ও পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করে থাকে।
এনসিপি’র ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও তারা সীমান্ত সংক্রান্ত ন্যায়বিচার ও জাতীয়তাবাদী দাবিগুলো সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।


