ইরান বিক্ষোভে নিহত দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ প্রদেশে

ইরান বিক্ষোভে নিহত দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ প্রদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ বুধবার ১১তম দিনে প্রবেশ করেছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তা বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের চাহারমহল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লর্ডেগান শহরে বুধবার সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

স্থানীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত প্রায় ১০টার সময় লর্ডেগানের খারদুন পাড়া ও শিরোনি সেতুর আশেপাশে প্রায় ৩০০ জন দোকানদার তাদের ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নামেন এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিছু কিছু ব্যক্তি সংঘর্ষের উসকানি দেয়ার ফলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সশস্ত্র কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর উপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটায়। সংঘর্ষের সময় গভর্নরের কার্যালয়সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করা হয়।

উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী খোরাসান প্রদেশের বোজনর্ড শহরে একটি দোকানে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরানের অভিজাত শেমিরান জেলায় এবং পশ্চিম ইরানের আলিগুদারজেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অস্ত্র হাতে নাশকতা বা সহিংসতায় জড়িতদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরওয়ের মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) মঙ্গলবার দাবি করেছে, ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের সময় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের এই আন্দোলন আর্থ-সামাজিক চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারি নীতির প্রতি নাগরিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশের ২৫টি প্রদেশে বিক্ষোভের বিস্তার ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারকে জনগণের দাবি বিবেচনার জন্য রাজনীতি ও নীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আহ্বান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনার পাশাপাশি, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং সংঘর্ষ ও সহিংসতার সম্ভাব্য বৃদ্ধির ওপর সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এই আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছে। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও সরকার-নাগরিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ