রাজনীতি ডেস্ক
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর এলাকায় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার সময় বিএনপি ও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, চাঁদাবাজদের পদচারণা নড়বড় হয়ে তাদের জন্য ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন অনুযায়ী ইনসাফের বাংলাদেশ গঠনের জন্য কাজ করছি। মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রতিপক্ষ এখন ভয়ের পরিস্থিতিতে রয়েছে।’’
হাসনাত আরও বলেন, বড় বড় ক্ষমতাধারীরা নিজেদের মধ্যে সংঘাত শুরু করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ‘‘বড় বোয়াল মাছ পুকুরের সব মাছ খেলে নিজের লেজে কামড় দেয়। অনুরূপভাবে বড় হোমরা-চোমড়ারা এখন নিজেদের মধ্যে দমনমূলক আচরণ করছে।’’
তিনি শহীদ ওসমান হাদির সততা ও রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে বলেন, ‘‘হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে তার আদর্শের কারণে। তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। অনেকেই এমনভাবে তার প্রতি দোয়া করেছেন, যাদের সঙ্গে হাদি ভাইয়ের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। তার রাজনীতিতে কোনো ভন্ডামি ছিল না, তিনি কোনো লুটপাট করেননি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় স্বচ্ছ ও সততার পথ অনুসরণ করেছেন।’’
পদযাত্রার সময় হাসনাত নির্বাচনে এনসিপির প্রতীক শাপলা কলিতে ভোট চাইতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই নির্বাচনে জনগণের কাছে ন্যায্যতা, সততা ও স্বচ্ছ রাজনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া, স্থানীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আগ্রাসন বিরোধী নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
পদযাত্রা ও নির্বাচনী প্রচারণা পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় জনগণের মাঝে এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের মনোভাবের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য থেকে প্রতিপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং স্ব-সচেতনতার সংকট প্রতিফলিত হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা স্থানীয় রাজনীতির গতিশীলতা এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
এনসিপি ও জোটশক্তির এই প্রচারণা আগামী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারের মনোভাব প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


