জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম

জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম

আইন আদালত ডেস্ক

সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাবেক বিডিআর সদস্য জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালটি সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদার। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার আদালতে জিয়াউলের আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তারা বলেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ তুলে ধরেছে, তা প্রমাণ করার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততার কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি। পরে তারা ট্রাইব্যুনালের কাছে জিয়াউলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন জানান।

অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে (প্রাইমা ফেসি) আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে সজলসহ তিনজন বন্দীকে অবৈধভাবে আটক করে গাজীপুরের দিকে নেওয়া হয়। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনাতে বন্দীদের ট্রলার বা নৌকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হতো। লাশ সিমেন্টের ব্লক বেঁধে পানিতে ফেলা হতো। এই হত্যাকাণ্ড ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালিত হতো। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হতো এবং তা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসাবে দেখানো হতো। এসব অভিযানে র‍্যাবের নির্বাচিত সদস্যরা অংশগ্রহণ করত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও অভিযোগ গঠনের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে, যা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ