নির্বাচনী ব্যয়ে অনুদান ৩৯.৬৬ লাখ: বরিশাল-৩ আসনে লড়বেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নির্বাচনী ব্যয়ে অনুদান ৩৯.৬৬ লাখ: বরিশাল-৩ আসনে লড়বেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ


রাজনীতি ডেস্ক

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশ ও প্রবাসের সমর্থকদের কাছে আর্থিক অনুদান আহ্বান করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা (বিকাশ), ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা (নগদ) এবং ব্যাংক হিসাবে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা জমা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট অনুদান দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা, যা নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সর্বোচ্চ ব্যয় সীমার চেয়ে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৬ টাকা বেশি।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সক্রিয় ব্যারিস্টার ফুয়াদ ৫ জানুয়ারি সোমবার এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুদান আহ্বানের সূচনা করেন এবং ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে অনুদানের সার্বিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। তার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ফোনকল ও বার্তা আসে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো আসনের প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় সীমা নির্ধারণে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। বরিশাল-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। সেই হিসাবে ব্যয় সীমা নির্ধারিত হয়েছে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা।

নির্বাচনী ব্যয়ে অতিরিক্ত অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান। তিনি অতিরিক্ত অর্থ ফেরত, পরবর্তী ধাপে সমন্বয়, কিংবা কমিশনের বিধি অনুযায়ী বৈধ ব্যয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অনুদান আহ্বানের প্রেক্ষাপট মূলত দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বিস্তার ও নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ। এবি পার্টি ২০২০ সালের ২ মে আত্মপ্রকাশের পর থেকে ‘গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার, সুশাসন, এবং রাজনৈতিক সংস্কার’—এই নীতিগুলোকে সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদ দলের অন্যতম মুখপাত্র ও সংগঠক হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত।

বরিশাল-৩ আসনটি ভৌগোলিকভাবে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রধানত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। তবে এবারের নির্বাচনে এবি পার্টি থেকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের অংশগ্রহণ আসনটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নির্বাচনী অনুদান আহ্বান ও তা প্রকাশ্য হিসাব আকারে জনসমক্ষে প্রকাশ বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন প্রবণতা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রার্থী ডিজিটাল আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। এটি একদিকে যেমন নাগরিক অংশগ্রহণকে দৃশ্যমান করে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের সুযোগ তৈরি করে—যা নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক সংস্কারকামী মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে নির্বাচনী অনুদান সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থপ্রাপ্তি ও তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া, অডিটিং বাধ্যবাধকতা, এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ—এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনের কাঠামো অনুযায়ী কঠোরভাবে প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদ অডিট ও হিসাব জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন সাধারণত প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখার নির্দেশনা প্রদান করে এবং ব্যয় পর্যবেক্ষণে মনিটরিং টিম নিয়োগ করে। প্রার্থীর দাখিল করা ব্যয়ের হিসাব ও অডিট রিপোর্ট যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনায় প্রার্থীর ব্যয়, অনুদান উৎস, এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—এসব বিষয়কে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের নির্বাচনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের অনুদান আহ্বান ও হিসাব প্রকাশ সেই প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

ডিজিটাল আর্থিক অনুদান সংগ্রহে অংশ নেওয়া প্রবাসী সমর্থকদের ভূমিকা সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা প্রবাস থেকেও সহজে লেনদেন গ্রহণের সুযোগ তৈরি করায় নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে।

এ আসনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারণা কৌশলে তরুণ ভোটার, স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণ, প্রবাসী নেটওয়ার্ক, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জনসংযোগ—এসব ক্ষেত্র গুরুত্ব পাবে বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ব্যয় সীমা প্রতিপালন ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি আইনজীবী পেশায়ও সক্রিয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আইনি মতামত ও জনপরিসরে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ, অতিরিক্ত অনুদানের করণীয়, অডিটিং, এবং কমিশনে হিসাব দাখিল—এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ