রাজনীতি ডেস্ক
বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেক প্রার্থী থাকে যাদের প্রত্যাশা থাকে, তবে সবাই মনোনয়ন পায় না। বৃহত্তর স্বার্থ এবং আসন সমঝোতার কারণে, এছাড়া পার্লামেন্টে মাল্টিপার্টি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য দলের অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই কারণে কিছু প্রার্থীর মধ্যে মনোব্যথা থাকায়, তাদের প্রতি প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বোঝানো ও শান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিষয়টি শিগগিরই মীমাংসা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে বলেন, এটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই দেখছেন। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো জাতীয় দায়িত্ব। BNP’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বহু আগে এটি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে যাত্রা এখনো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির প্রত্যাশা, যা এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি বিষয়ক কোনো প্রভাব এ প্রক্রিয়ায় নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান জানানো জরুরি। শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে মহিমান্বিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং আন্তরিকতায় নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সময়ে দাবী ও যুক্তি উপস্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত সবার মনোভাব সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আরও জানান, বর্তমানে যদি প্রার্থীদের কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, বিশেষ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও অন্যান্য নির্বাচনি বিষয়ে, তারা তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানাতে পারবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন ও সরকার মিলে এসব অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান করবে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করছে।


